আজ মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
Krishipedia.com

ট্যাংকে মাছ চাষ পদ্ধতি: আরএএস (RAS) এবং বায়োফ্লক (Biofloc)

প্রকাশক:   প্রকাশকাল: ২৬ এপ্রিল, ২০২০   বিভাগ: আধুনিক মাছ চাষ, কৃষি প্রযুক্তি  

পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাবারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে মৎস্য উৎপাদন একটি অন্যতম লাভজনক পেশা। কিন্তু মৎস্য চাষের জন্য প্রয়োজন জলাশয় বা পুকুর, যা দেশে দেশে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি বের করেছেন । ট্যাংক মাছ চাষ পদ্ধতি এর মধ্যে অন্যতম। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো অল্প জায়গায় অধিক মান সম্মত মাছ উৎপাদন। এই পদ্ধতিতে পুকুরের পরিবর্তে বিভিন্ন আকৃতির ট্যাংক ব্যবহার করে মাছ চাষ করা হয়। এখানে আমরা ট্যাংকে মাছ চাষের দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতি  আরএএস (RAS) এবং বায়োফ্লক (Biofloc) নিয়ে আলোচনা করবো।

আরএএস (RAS) পদ্ধতিঃ

RAS পদ্ধতির নমুনা ডিজাইন

RAS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Recirculating Aquaculture System (রি-সার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম)। অল্প জমি আর কম পানিতে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে জনপ্রিয় পদ্ধতি এটি। এটি বদ্ধ পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং মাছের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে মাছ চাষের একটি আধুনিক পদ্ধতি । এতে ব্যবহৃত পানিকে বার বার পরিশোধন করে ব্যবহার করা হয় । ফলে পানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করা যায় । এ পদ্ধতিতে প্রতিটি ট্যাঙ্ক পাইপ দিয়ে মেকানিক্যাল ফিল্টার যুক্ত। এ ফিল্টার প্রতিটি ট্যাঙ্কের মাছ ও মত্স্য খাদ্যের বর্জ্য পরিষ্কার করে। পরে এ পরিষ্কার পানি পাম্প দিয়ে বায়োফিল্টারে তোলা হয়। মাছের বৃদ্ধি যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পানি পরিশোধন করা হয়। সার্বক্ষণিক ফিল্টারিংয়ের ফলে পানি পরিশোধন হয় আর পরিশোধিত পানির ১০ শতাংশ বর্জ্য হিসেবে বের হয়ে যায়। এটি আবার জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মাছের খাবার নষ্ট হয় না। সাধারণত পুকুরে অক্সিজেনের স্বল্পতা থাকে, এখানে সে অসুবিধা নেই। ৮০ শতাংশ পানি সম্পূর্ণ শোধন করে পুনর্ব্যবহার করা যায়। মেকানিক্যাল ও বায়োপরিশোধন প্রক্রিয়ায় মাছের বর্জ্য, খাদ্যাবশেষ, দ্রবীভূত এমোনিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড এসব ক্ষতিকারক গ্যাস ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অপসারণ সম্ভব। এসব উপাদান মাছের বৃদ্ধিতে ক্ষতিকারক।

RAS প্রযুক্তি সংক্রান্ত সংক্ষেপ ধারণা:

  • এখানে ট্যাঙ্কে মাছ চাষ করা হয়।
  • মাছের বর্জ্য ও খাবারের উচ্ছিষ্ট সহ পানি মেকানিক্যাল ফিল্টারে পরিশোধিত হয়ে বর্জ্য থেকে আলাদা হয়।
  • পরবর্তীতে এই পানি বায়োফিল্টার বিশেষ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাস মুক্ত করা হয় এবং সেই সাথে পানিতে অক্সিজেন দ্রবীভূত করা হয়।
  • এই পরিশোধিত পানি পুনরায় ট্যাঙ্কে ফেরত যায়। এটি একটি সার্বক্ষণিক প্রক্রিয়া।
  • এই প্রক্রিয়াতে ট্যাঙ্কে সামান্য পরিমাণ পানি ঘাটতি হয় যা নলকূপের পানি দ্বারা পূরণ করা হয়
  • সমস্ত প্রক্রিয়াটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিচালিত।

আরএএস (RAS) এর বায়োফিল্টার পদ্ধতি ও মেকানিক্যাল ফিল্টার পদ্ধতিঃ

পানি ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে RAS বায়োফিল্টার পদ্ধতি ও মেকানিক্যাল ফিল্টার পদ্ধতি এই দুই ভাবে করা যায়।

১. বায়োফিল্টার পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পানি থেকে মাছের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর করা হয়। ফলে ট্যাংক এর পানির পরিবেশ উন্নত হয় এবং মাছের পিড়ন জনিত ক্ষতির প্রভাব কাটিয়ে রোগজীবাণুর আক্রানত হওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রস করে ও অক্সিজেন বৃদ্ধি করে ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর এই বায়োফিল্টার বিভিন্ন বায়োমিডিয়া ব্যাবহার করে কম খরচে সহজেই সেট করা যায়। আর এটি একটি টেকসই প্রয়ুক্তি এবং বাংলাদেশে বায়োফিল্টার পদ্ধতি নিরাপদ ও ১০০% কার্যকর, আস্থাশীল।

বায়োফিল্টার পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত ট্যাংক ও মেশিনারীজ প্রয়োজন।

  • চাষ ট্যাংক
  • সলিড সেটেলিং ট্যাংক
  • সলিড সেপারেটর ট্যাংক
  • বায়োফিল্টার ট্যাংক
  • রিজার্ভার ট্যাংক
  • ওয়াটার টিটমেন্ট ট্যাংক
  • এয়ার ব্লুয়ার ও অক্সিজেন সিলিন্ডার
  • এয়ার ইনজেক্টর
  • ওয়াটার হিটার ও হট ব্লুয়ার
  • কন্ট্রোল সেট ইত্যাদি।

২. মেকানিক্যাল ফিল্টার পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে বেশির ভাগ কৃত্রিম ভাবে সেট করা হয়। এখানে বিভিন্ন মেকানিক্যাল ফিল্টারের মাধ্যমে, পানি থেকে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর ও পানিকে জীবাণু মুক্ত করা হয়। ফলে পানির পরিবেশ উন্নত হয় ও মাছ পিড়নের হাত থেকে রক্ষা পায় ফলে মাছের বৃদ্ধি ভাল হয়। এটি একটি ব্যায় বহুল পদ্ধতি। মেকানিক্যাল ডিবাইজ গুলো বেশি দামের হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খরচ বেশি। ডিবাইজ গুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত ট্যাংক ও মেশিনারীজ প্রয়োজন।

  • চাষ ট্যাংক
  • ড্রাম ফিল্টার
  • সলিড সেপারেটর ট্যাংক
  • প্রোটিন এসকিমিং
  • রিজার্ভার ট্যাংক
  • ওয়াটার টিটমেন্ট ট্যাংক
  • এয়ার ব্লুয়ার ও অক্সিজেন সিলিন্ডার
  • এয়ার ইনজেক্টর
  • ওয়াটার হিটার ও হট ব্লুয়ার
  • কন্ট্রোল সেট
  • UV ও ওজন ফিল্টার
  • কার্বন ফিল্টার
  • অক্সিজেন জেনারেটর ইত্যাদি।

উল্লেখিত ২ টি পদ্ধতিতেই সলিড ম্যানেজ ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ২ – ৩ দিন পর অথবা পানির pH ও অ্যামোনিয়ার অবস্থা বেদে দৈনিক এক বার সলিড ট্রাপিং করতে হবে।

সলিড ট্রাপিং : সলিড ট্রাপিং হচ্ছে ট্যাংক এর তলায় জমে থাকা ময়লা আউট লাইন এর মাধ্যমে বের করে দেওয়া। চাষ ট্যাংক এবং সলিড সেটেলিং ট্যাংক এমন ভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে পানির ঘুর্নিয়ন এর ফলে ট্যাংক এর কেন্দ্র সব ময়লা এসে জমা হয়। এই জন্য ট্যাংক নির্মাণ করার সময় কেন্দ্রের দিখে একটু ঢালো রাকতে হবে।

RAS এ লাভের সম্ভাবনা?

এ পদ্ধতিতে পুকুর থেকে ৩০ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রকল্প। উদাহরণস্বরূপ বছরে ১০ টন সাদা মাছ উৎপাদনে সক্ষম একটি প্রকল্পের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রকল্পের স্থাপনা খরচ, উৎপাদন খরচ এবং মাছের বিক্রয়মূল্য বিবেচনায় ২-৩ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া সম্ভব ।

 

বায়োফ্লক (Biofloc) পদ্ধতিঃ

বায়োফ্লক প্রযুক্তি

বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষের একটি টেকসই এবং পরিবেশগত ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মাছ চাষ পদ্ধতি। বায়োফ্লক হল প্রোটিন সমৃদ্ধ জৈব পদার্থ এবং অণুজীব, যেমন- ডায়াটম, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, অ্যালজি, ফেকাল পিলেট, জীবদেহের ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদির ম্যাক্রো-এগ্রিগেট। এটি এমন একটি একোয়াকালচার সিস্টেম যা কার্যকর ভাবে পুষ্টি উপাদানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে খুব কম পানি পরিবর্তন বা একবারও পানি পরিবর্তন না করে। এই প্রযুক্তি পানিতে বিদ্যমান কার্বন ও নাইট্রোজেন এর সাম্যাবস্থা নিশ্চিত করে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করে। বায়োফ্লক প্রযুক্তির মূলনীতি হল ইহা হেটারোট্রপিক।

ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, পানিতে উচ্চ কার্বন-নাইট্রোজেন অনুপাত নিশ্চিত করার মাধ্যমে যা ক্ষতিকর অ্যামোনিয়াকে অণুজীব আমিষে রূপান্তর করে। এটি একটি পরিবেশ বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি যা ক্রমাগতভাবে পানিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানগুলোকে পুন: আবর্তন এর মাধ্যমে পুনঃ ব্যবহার নিশ্চিত করে। ট্যাংকের পানি খুব কম পরিবর্তন উক্ত ট্যাংকে বিদ্যমান অণুজীবের বৃদ্ধির সহায়ক হয় বলে এটি একটি টেকসই প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

বায়োফ্লকের ট্যাংক তৈরির প্রক্রিয়াঃ

প্রথমে গ্রেড রড দিয়ে ট্যাংকের বৃত্তাকার খাঁচাটি তৈরি করতে হবে। যেই স্থানে ট্যাংকটি স্থাপন করা হবে সেই জায়গাতে খাঁচার পরিধির সমান করে সিসি ঢালাই দিতে হবে। বৃত্তের ঠিক কেন্দ্রে পানির একটি আউটলেট পাইপ স্থাপন করতে হবে। এরপর খাঁচাটিকে ঢালাই মেঝের উপর স্থাপন করে মাটিতে গেঁথে দিতে হবে। মেঝের মাটি শক্ত ও সমান হলে ঢালাইয়ের পরিবর্তে পরিধির সমান করে পুরু পলিথিন বিছিয়েও মেঝে প্রস্তুত করা যায়। এরপর উন্নতমানের তারপুলিন দিয়ে সম্পূর্ণ খাঁচাটি ঢেকে দিতে হবে। তার উপর পুরু পলিথিন দিয়ে আচ্ছাদিত করে তাতে পানি মজুদ করতে হবে। এরেটর পাম্পঃ বায়োফ্লক ট্যাংকে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়ার জন্য একটি এরেটর পাম্প স্থাপন করতে হবে। ছয় ফুট ব্যাসার্ধের এবং চার ফুট উচ্চতার একটি ট্যাংকে প্রায় ত্রিশ হাজার শিং মাছ চাষ করা যাবে।

বায়োফ্লকের জন্য উপযোগী পানি তৈরীঃ

প্রথমে ট্যাংক ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে পানির গুণাবলীঃ

  • তাপমাত্রা – ২৫ – ৩০ ° C
  • পানির রং – সবুজ, হালকা সবুজ, বাদামী।
  • দ্রবীভূত অক্সিজেন – ৭- ৮ mg/L
  • পিএইচ – ৭.৫ – ৮.৫
  • ক্ষারত্ব – ৫০ – ১২০ mg/L
  • খরতা – ৬০ – ১৫০ mg/ L
  • ক্যালসিয়াম – ৪ – ১৬০ mg/L
  • অ্যামোনিয়া – ০.০১ mg/L
  • নাইট্রাইট – ০.১ – ০.২ mg/L
  • নাইট্রেট – ০ – ৩ mg/L
  • ফসফরাস – ০.১ – ৩ mg/L
  • H2S – ০.০১ mg/ L
  • আয়রন – ০.১ – ০.২ mg/L
  • পানির স্বচ্ছতা – ২৫ – ৩৫ সে.মি.
  • পানির গভীরতা – ৩ – ৪ ফুট
  • ফ্লকের ঘনত্ব – ৩০০ গ্রাম / টন
  • TDS – ১৪০০০ – ১৮০০০ mg/L
  • লবণাক্ততা – ৩ – ৫ ppt

পানিতে ফ্লক তৈরিঃ

প্রথম ডোজে ৫ ppm প্রেবায়োটিক, ৫০ ppm চিটাগুড়, ৫ ppm ইস্ট, পানি প্রতি টনের জন্য ১ লিটার, একটি প্লাস্টিকের বালতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে ৮- ১০ ঘন্টা কালচার করে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিন থেকে ১ppm প্রোবায়োটিক, ৫ ppm চিটাগুড়, ১ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি দিয়ে উপরের সময় ও নিয়মে কালচার করে প্রতি দিন প্রয়োগ করতে হবে।

পানিতে যথাযথ পরিমাণ ফ্লক তৈরি হলেঃ

  • পানির রং সবুজ বা বাদামী দেখায়।
  • পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ কণা দেখা যায়।
  • পানির অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করলে পানি অ্যামোনিয়া মুক্ত দেখায়।
  • প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম ফ্লকের ঘনত্ব পাওয়া যাবে।
  • ক্ষুদিপানা দেওয়ার পর তাদের বংশ বিস্তার পরিলক্ষিত হয়।

বায়োফ্লক (Biofloc) পদ্ধতিতে যে সকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:

  • বায়োফ্লকপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা মাছচাষের ফলে উৎপাদিত বর্জ্য কে প্রোটিন সমৃদ্ধ জৈব খাবারে তৈরি করে। তাই সঠিক উৎস হতে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করতে হবে।
  • নিয়মিত ট্যাংকে সরবরাহকৃত পানির গুণাগুণ যেমন- অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট, নাইট্রাইট, ফ্লকের ঘনত্ব ইত্যাদি পরিমাপ করতে হবে
  • পর্যাপ্ত ফ্লকের বৃদ্ধির জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • বয়োফ্লকের মাধ্যমে মাছ চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। কারণ এই প্রযুক্তিতে যদি পানির গুণাগুণ পরীক্ষা, সঠিক মাত্রায় খাদ্য প্রয়োগ, ফ্লকের ঘনত্ব পরিমাপ ইত্যাদি বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান না থাকে তাহলে চাষি যে কোন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ট্যাংকে অধিক পরিমাণে মাছ রাখা হয়। তাই ট্যাংকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। আর ট্যাংকে সব সময় অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ লাগবে। তা না হলে ট্যাংকের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে সব মাছ এক সাথে মারা যেতে পারে। সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ট্যাংকে অক্সিজেন সরবরাহ না করা হলে সব মাছ মারা যেতে পারে।

বায়োফ্লক পদ্ধতির জন্য মাছ নির্বাচনঃ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ এখনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। তাই আমাদের দেশে সচরাচর চাষকৃত মাছ যেমন- তেলাপিয়া, রুই, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা ও চিংড়ীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যেতে পারে। তবে, যারা নতুন করে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ শুরু করতে চান তারা অবশ্যই প্রথমে তেলাপিয়া, শিং ও মাগুর মাছ দিয়ে চাষ শুরু সমীচীন হবে।

 

পরিশেষে, আমাদের মত কম জমি এবং অধিক  বেকারত্বের দেশে আরএএস এবং বায়োফ্লক এর মত মাছ চাষ পদ্ধতি অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। মাছ চাষের এই পদ্ধতি গুলো যদি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে আমাদের দেশের মাছের উৎপাদন অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পাশাপাশি অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান করা যাবে।

তথ্যসূত্রঃ

কৃষি তথ্য সার্ভিস (এ আই এস)

আর এ টেকনোলজিস

আরএএস ব্লগ

সরকার এগ্রো ব্লগ

বিডিফিস ব্লগ

ইউটিউব ভিডিও

সর্বশেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২০, ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ

আরো পড়ুনঃ

শোল মাছ চাষে জাকির হোসেনের সাফল্য

শোল মাছ হাতে জাকির হোসেন, ছবিঃ ভয়েস অব সাতক্ষীরা শোল মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছেন সাতক্ষীরার জাকির হোসেন। দুটি পুকুরে দেশি জাতের শোল মাছের চাষ করেন তিনি। দেশি জাতের মাছ যেখানে...

সুগন্ধি কারিপাতার ব্যবহার ও পরিচিতি

চিত্রঃ ফুলসহ কারিপাতা গাছ পরিচিতিঃ কারিপাতা Rutaceae গোত্রের একটি উপকূলীয় উদ্ভিদ, যা ভারত এবং শ্রীলঙ্কা এর আঞ্চলিক উদ্ভিদ। যার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Murraya koenigii। মূলত কারি বা ঝোল তরকারি রান্নার জন্য...

খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস পালন পদ্ধতি A টু Z

যারা ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে হাঁস পালন করতে আগ্রহী তাদের কাছে ক্যাম্পবেল জাতই বেশি জনপ্রিয়। ইংল্যান্ডের এই সংকর জাতটির হাঁসের রং খাকি বলে এর নাম খাকি ক্যাম্পবেল। ক্যাম্পবেল নামক এক মহিলা...

Your email address will not be published.

ক্যালেন্ডার

অক্টোবর ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১